প্রানিসেবা শপ | প্রানিসেবা ভেট | যোগাযোগ | আপনার জিজ্ঞাসা | ব্লগ     01847469945        BN | EN

দুধ জ্বর নিয়ে কিছু কথা যা খামারিদের জানা দরকারঃ

দুধ জ্বর সাধারণত বাচ্চা প্রসবের পর এবং যেসব গাভী বেশি পরিমাণ দুধ দেয় এ রকম গাভীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। মূলত এ রোগটি রক্তে ক্যালসিয়ামের অভাবে হয়ে থাকে আর এজন্য একে একটি বিপাকীয় রোগ বলা হয়। রোগটিকে দুধ জ্বর বলা হলেও আসলে কোন জ্বর থাকেনা বরং তাপমাত্রা নিম্নগামী থাকে।

এ রোগের কারণ-গুলো হলঃ    

১।গর্ভস্থ বাচ্চাতে এবং দুধের সাথে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম চলে যায় যার ফলে এই রোগ হয়।

২।বাচ্চা প্রসবের সময় জরায়ুতে যদি ফুল আটকে থাকে বা কোন কারণে যদি জরায়ু বাইরের দিকে চলে আসে, কিংবা জরায়ুর কোন স্থানে যদি বাচ্চা আটকে থাকে, তাহলে ও এই রোগ হতে পারে। 

৩।যেসব গাভী দুই থেকে তিনবার বাচ্চা প্রসব করেছে তাদের মধ্যে এ রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি।

৪।গাভীর দেহে বিভিন্ন খনিজের ঘাটতির ফলে স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার জন্যও এ রোগ হতে পারে।

লক্ষণসমূহঃ 

১।গাভীর হাটতে ও খাদ্য গ্রহণে অনিচ্ছা 

২।হাঁটলেও এলোমেলো ভাবে পা ফেলে এবং গাভী মাটিতে শুয়ে পড়ে আর উঠে দাড়াতে চায়না।

৩।অনেক সময় মাথা ঝাঁকাতে থাকে  

৪।প্রাণী ক্লান্তভাবে দেহের এক পাশে মাথা গুঁজে শুয়ে থাকে। এই বিশেষ ভঙ্গি দুগ্ধ জ্বরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

৫।দেহের তাপমাত্রা কমে যায় এবং মাথা ও পায়ের মাংসপেশি কাঁপতে থাকে এমনকি জিহ্বা বের হয়ে আসতে পারে। শেষ পর্যায়ে গাভী অচেতন হয়ে যায় এবং পেট ফুলে মারাও যেতে পারে

প্রতিকারঃ

১।গর্ভবতী গাভীকে সুষম খাবার সরবরাহ  

২।গাভীর খনিজ খাবারের পরিমাণ নিশ্চিত করতে হবে। 

৩।বয়স্ক গাভীর পর্যাপ্ত পরিচর্যা নিতে হবে। 

৪।প্রসবকালীন শেষ মাস এ  গাভীর খাদ্যে পরিমিত অনুপাতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি এর সরবরাহ করতে হবে।

চিকিৎসাঃ

রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গাভীর পরিচর্যা করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে।