যোগাযোগ | আপনার জিজ্ঞাসা | ব্লগ     01847469945        BN | EN

রিপিট ব্রীডিং কী?

বাংলাদেশ এর গাভী গুলোর মধ্যে একটি সমস্যা হল পুনঃ পুনঃ গরম হওয়া। একে বলা হয় রিপিট ব্রীডিং। এই গাভী আপাতত দৃষ্টিতে কোন রোগে আক্রান্ত বলে মনে হয়না। প্রথম একটা বা দুইটা বাচ্চাও দিয়েছিল আগে। কিন্তু বর্তমানে তা আর গর্ভ ধারণ করছেনা। পরপর তিনবার বীজ দেওয়ার পর ও আবার হিট এ আসে।

গাভী যদি স্বাভাবিক ঋতুচক্রে পুনঃ পুনঃ গরম হয় এবং ৩/৪ বার পাল দেওয়া বা কৃত্রিম প্রজননের পরেও গর্ভধারণ না করে তবে এ সমস্ত গাভীকে ‘রিপিট ব্রিডার’ গাভী বলে।

কারণঃ

১) গাভীর মধ্যে যদি কোন হরমোনের ক্ষরণ ও কার্যকারিতা কম হয়।

২) নিষেকের অকার্যকারিতা।

৩) সঠিক সময়ে গরম হওয়া নির্ধারণ করতে না পারা।

৪) জরায়ুতে জীবাণুর সংক্রামণ।

৫) কৃত্রিম প্রজননের সমস্যা।

৬) অপর্যাপ্ত নিম্মমানের সিমেন দেওয়া।

৭) সময়মত ও যথাস্থানে সিমেন না দেওয়া।

প্রধানত ৮১.৮৭ শতাংশ জীবাণুঘটিত এবং অবশিষ্ট ১৮.১৩ শতাংশ সংক্রামক নয় এমন কোন কারনে প্রাণী গর্ভধারণ না করে পুনঃ পুনঃ গরম হয়।

সংক্রমনের কারণঃ

১) বিভিন্ন ধরনের জীবাণু দ্বারা এই রোগ হতে পারে।

২) যদি ডিম দেরিতে নিঃসরিত হয় এবং প্রজননে বীজের মান ভালো না হয়।

৩) জরায়ুর পরিবেশ ভাল না থাকলে। জরায়ুতে কোন সিস্ট বা টিউমার জাতীয় ফাইব্রোসিস হলে।

৪) প্রাণীর দেহে হরমোন ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ে সিস্ট অথবা অন্য কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে।

৫) জন্মগত ত্রুটির কারনে গাভীর যোনি নালি বন্ধ থাকলে গাভী গরমের সময় যথারীতি প্রজনন করালেও শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হতে পারে না।

৬) জরায়ু সংক্রমণ সাধারনত ষাড় দ্বারা মিলনের সময়,অস্বাস্থ্যকর কৃত্রিম প্রজনন ও প্রসবের সময় ও পরে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে থাকে।

এছাড়াও কিছু বিষয় বার বার গরম হওয়াকে প্রভাবিত করে। যেমন-

১) ওলান প্রদাহ রোগ বার বার গরম হওয়ার হার বৃদ্ধি করে ও উৎপাদন কমিয়ে দেয়।

২) দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বারবার গরম হওয়ার হার নির্ভর করে।

৩) বাচ্চা প্রদানের সংখ্যার ওপর বারবার গরম হওয়ার হার নির্ভর করে।

৪) জটিল প্রসবের ফলে গরম হওয়ার হার বেড়ে যেতে পারে। 

৫) প্রথম প্রজনন করানোর আগে চিকিৎসা দেয়া না হলে গাভী বারবার গরম হতে পারে।

রোগ নির্ণয়ঃ

১) বারবার গরম হওয়া গাভী পুষ্টিহীনতায় ভুগে।

২) জননতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ইতিহাস যে গাভীর আছে, তার রিপিট ব্রীডিং এর সমস্যা হতে পারে।

৩) রেকটাল পালপেশনের মাধ্যমে (জরায়ু স্ফিত ও ব্যাথাপূর্ণ হলে) রিপিট ব্রীডিং নির্ণয় করা যায়।

রিপিট ব্রীডিং ঠেকানোর কৌশলঃ 

রিপিট ব্রীডিং ঠেকাতে খামারে যথাযথ পরিবেশ ও প্রজননের হিসাব রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সূর্যমুখী প্রাণিসেবার অ্যাপের মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজননের নথি এবং খামার ব্যবস্থাপনার রেকর্ড কীপিং এর সুব্যবস্থা বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।